মাধবকুণ্ডে ভারী বর্ষণে দেবে গেছে রাস্তা, ঝুঁকিতে পর্যটক চলাচল


মাধবকুণ্ডে ভারী বর্ষণে দেবে গেছে রাস্তা, ঝুঁকিতে পর্যটক চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে যাওয়ার রাস্তার একাংশ ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেবে গেছে। ফেটে গেছে পাশের গাইডওয়ালও। এতে করে পর্যটকদের চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকি, যদিও বনবিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তা সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করেছে।

স্থানীয় বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাধবকুণ্ডে যাওয়ার রাস্তার প্রায় ৩১ মিটার দেবে যায়। পাশাপাশি গাইডওয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে দেবে যাওয়া অংশে বালুর বস্তা ফেলে মেরামত করে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে সেখানে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।

স্থানীয় ক্যামেরাম্যান জুয়েল আহমদ জানান, “কয়েকদিন আগে প্রবল বর্ষণে রাস্তাটি দেবে গিয়েছিল। এখন মেরামত করা হয়েছে। ঈদ সামনে, এই সময়টায় পর্যটকের সমাগম বাড়ে। তবে সম্প্রতি কিছুটা কম এসেছে।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইকোপার্কের রেস্তোরার সামনের সড়কের একাংশ দেবে গেছে। গাইডওয়ালও ফাটল ধরা অবস্থায় আছে। জলপ্রপাতে নামার সিঁড়ির নিচের মাটিও ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ অবস্থায় পর্যটক সমাগম কিছুটা কমলেও ঈদের ছুটিতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা চার শিক্ষার্থী—আব্দুল আলিম, আশিক হাসান, আছের উদ্দিন ও রনি আহমেদ জানান, “প্রথমবার এসেছি। জলপ্রপাত ও প্রকৃতি খুবই সুন্দর, তবে রাস্তার ঝুঁকির বিষয়টি আগে জানলে প্রস্তুতি নিয়ে আসতাম।”

মাধবকুণ্ড পর্যটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন সিংহ বলেন, “বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছি। এখনো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, তবে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।”

এ বিষয়ে বড়লেখা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. রেজাউল মৃধা জানান, “চারদিনের ভারী বর্ষণে রাস্তার প্রায় ৩১ মিটার অংশ দেবে গেছে। আগেও একইস্থানে এমন হয়েছিল। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মেরামত করেছি এবং বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন সড়ক দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী দিনগুলোতেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বড় ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url